সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাইনির খপ্পরে মুছির ছেলে ? মাওলানা ইব্রাহীম আজিজি



এক দেশে এক রাজা ছিলো, তার একটি কন্যা ছিলো।
তার বিবাহের বয়স অনেক কিন্তু রাজকন্যার বিবাহ সে কারো সাথে দিতে চাইতোনা।কারন সে ভাবতো তার সমান কোনো রাজা নেই, এই পাগলামির কারনো সে বড় বড় অনেক রাজার বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতো।

হঠাৎ সে দেশে একদিন প্রচন্ড ঝড় তুফান শুরু হলো বাতাসের গতি এত তীব্র ছিলো যে রাজার সুরক্ষিত ঘরের চাদে এক নেংটি পরা মুচির ছেলেকে তুলে রেখে দিলো।
ঝড় থামার পর সেই ছেলেকে দেখে সবাই অবাক!!!! এত সংরক্ষিত সিঁড়ি বিহীন চাঁদে তো কোন সাধারণ মানুষ সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়,
রাজা সকল পন্ডিতদের ডেকে তার রহস্য উদ্ঘাটন করার আদেশ জারি করলেন।
পন্ডিতরা অনেক চিন্তা গবেষণা করে উত্তর দিলো যে এটা এক গায়েবি মানুষ। রাজকন্যার সাথে বিবাহের জন্য তাকে আসমান থেকে পাঠানো হয়েছে।
যখন দৃশমান এ জগতে কোনো যোগ্য পাত্র পাওয়া যায়নি তাই তাকে গায়েবি জগৎ থেকে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘোষণা রাজার পছন্দ হয়েছে, তখন রাজা হুকুম দিলেন তাকে গরম পানিতে চন্দনের পানি দিয়ে গোসল করাও, যখন গোসল করানোর জন্য সবাই ধরলো তখন সে চিৎকার দিতে লাগলো।
রাজা পন্ডিতদের জিজ্ঞেস করলো চিৎকার করতেছে কেন, তাঁরা বললো সে আলমে গায়বের মানুষ এখনো আমাদের এ জগতের সাথে পরিচিত হয় নি তাই।
তারপর যখন তাকে মেসক, গোলাপ, আন্মর,জাপরান ইত্যাদি সুগন্ধি মাখানো হলো সে বললো দুর্গন্ধে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমাকে ছেড়ে দাও।
রাজা জিজ্ঞেস করলো ছেলেটি এরুকম বকছে কেন??
তাঁরা বললো পৃথিবীর সুগন্ধি তার অপরিচিত তার অস্বস্তি লাগছে, এখানকার আলো বাতাসে অব্যস্ত হয়ে গেলে সুগন্ধি ও তার কাছে ভালো লাগাবে।
তার সামনে দামী হীরা জহরত মণিমুক্তা রাখা হলো সে বললো এগুলো আগুনের কয়লা আমাকে পুড়ে মারার জন্য। চিৎকার শুরু করে দিলো।
তারপর তার সামনে রাজকন্যাকে সুন্দর পোশাক আর রাজকীয় মণি মুক্তা ও সোনার অলংকারে সাজিয়ে তার সামনে আনা হলো,
রাজকন্যার সারা দেহে মুল্যবান মণিমুক্তায় ঝলমল করেছে, তাই দেখে মুছির ছেলে বলতে লাগল এই ডাইনির দেহের আগুনে পুরে আমি চারখার হয়ে যাবো, তোমরা আমাকে বাচাও,এই ডাইনি আমাকে খেয়ে ফেলবে!!!
সে মৃত্যু মুখে পতিত হওয়া ব্যাক্তির ন্যায় গেঙডাতে লাগলো।
এ অবস্থা দেখে পন্ডিতরা রাজাকে পরামর্শ দিলো যে সে আলমে গায়েবের মানুষ যখন দুনিয়ায় এসেছে দুনিয়াতেই থেকে যাবে,এখন তাকে দুনিয়ার মানুষের সাথে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করার সুযোগ দেয়ার দরকার, শিঘ্রি এই দুনিয়ার মানুষের সাথে তার ভাব হয়ে যাবে। ,
তখন তার সাথে রাজকন্যার বিবাহ দেয়া হবে,
অতঃপর তাঁকে মুক্ত করে দেয়া হলো, তখন সে রাজকীয় পোশাক খুলে ফেলে দিয়ে তার নেংটি পরে দৌড়ে সোজা বাড়িতে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে সব ঘটনা বললো, যে আমাকে ডাকাত রা ধরে নিয়ে প্রথমে একটা খোফের মধ্যে আটকে রেখে মাথায় গরম পানি ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছে কিন্তু আমি মরি নাই। এরপর জলন্ত আগুনের কয়লা তারপর একটি ডাইনি আসার কাছে পাঠিয়েছে তার সারা শরীরে আগুন দপদপ করছিলো,সে ডাইনি আমাকে খেয়ে ফেলার জন্য আমার দিকে এগিয়ে এসেছিলো কিন্তু আমাকে ধরতে পারে নাই আমি দৌড়ে চলে এসেছি।

শরিয়ত হলো এমনই এক সুন্দর ও সহজ ব্যাবস্থা যার মধ্যে মানুষের আরাম আয়েশের জন্য এবং যাবতীয় সব কিছু রয়েছে।
সবকিছুরই বিধান রয়েছে, কিন্তু আজকাল এত সুন্দর আশ্রয়টিকে মানুষ অবহেলা করছে।
আসলে তাদের রুচির বিকৃতি ঘটেছে ভালো জিনিস তারা চিনতে পারে না, ঠিক উপরে ঘটনায় মুচির ছেলের মতো।
এই চামারের ছেলের যেমন রুচির বিকৃতি ঘটেছে, তেমনি আজকাল অনেকের রুচির বিকৃতি ঘটেছে, তাই রাজকুমারীর চেয়েও অপরুপ সুন্দর শরিয়তকে ডাইনি ভেবে ফালিয়ে যাচ্ছে।
অথচ শরিয়তের যে দিকটাতে তাকাই তাঁর মনোরম আঁচলখানি অন্তর কেড়ে নেয়। যেন এটাই আমার আশ্রয়।
হে আল্লাহ আমাদের সকলকে মৃত্যু পর্যন্ত সহীহ দ্বীনের উপর অটল থাকার তাওফিক দান কর। আমীন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাতে যত তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন ততই উপকার।- মাওলানা ইব্রাহীম আজিজি

বর্তামানে বিশেষ করে তরুণ তরুণী যুবক যুবতীরা যে সমস্ত সমস্যায় জর্জরিত এবং রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য সু-পরামর্শ। বর্তমানে চিকিৎসকগণ দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অনেক উপকারিতা বর্ণনা করেছেন ----------- (এক) রোগ প্রতিরোধ : তাড়াতাড়ি ঘুমানো হলে মানুষের বুড়িয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথাসহ কয়েকটি মানসিক রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়। আর এ অভ্যাস গড়ে তুললে পেটও ভালো থাকবে। ফলে শরীরের রোগব্যাধি প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে। (দুই)ওজন নিয়ন্ত্রণ : পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তাই পর্যাপ্ত ঘুমালে মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। (তিন) উদ্যম : তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া মানুষকে কাজে উদ্যমী ও সৃষ্টিশীল হতে সহায়তা করে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের পর দিনের কার্যক্রম চালানোর জন্য যখন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা যাবে, তখন তত বেশি প্রাণবন্ত ও উদ্যম বোধ হবে। এতে দিনে সহজে ক্লান্তিবোধ হবে না। এ উদ্যম পরিপূর্ণভাবে কাজ করার জন্য যথাসম্ভব মাঝরাতের আগে ঘুমাতে যেতে হবে। (চার) মনের প্রফুল্লতা : যারা তাড়াতা...

সারা রাত জাগ্রত থাকার কারণে মারাত্মক যে ৮ টি ক্ষতি হয়।মাও. ইব্রাহীম আজিজি

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে লাগাতার  রাত জাগলে শরীর ভিতর থেকে ভাঙতে শুরু করে। যার ফলে এমন সব রোগ ঘাড়ে চেপে বসে যে আয়ু কমে চোখে পরার মতো। শুধু তাই নয়, মাত্রাতিরিক্তি খাওয়া-দাওয়া, সঙ্গে রাত জাগা লেজুড় হলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে। তাই শরীরের এসব মারাত্মক ক্ষতি থেকে  বাঁচতে হল এই অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।  রাত জাগার ফলে শরীরের যে ৮টি মারাত্মক ক্ষতি হয়:   ১.উচ্চ রক্তচাপ: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে টানা ২-৩ দিন ঠিক করে না ঘুমলে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে। আর এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত যদি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা না যায়, তাহলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ২.ওজন বাড়ে:  ২০১৪ সালে হওয়া একটি স্টাডিতে দেখা গেছে টানা কয়েকদিন ৬ ঘন্টার থেকে কম সময় ঘুমালে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কারণ ঘুম কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিদে বাড়তে থাকে।যার ফলে হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি হওয়ার আশংকা থাকে।  ৩. ব্রেনের পাওয়ার কমে: আমরা যখন ঘুমোই তখন আমাদের মস্তিষ্ক নিজেকে রিজুভি...